

সৌদি প্রতিনিধি: মোঃ সেলিম রানাঃ
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের সঙ্গে অন্যায়-অত্যাচার, হয়রানি, জুলুম, অব্যবস্থাপনা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিবেকের তাড়নায় এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সাধারণ যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে আমরা এই দাবি ও আবেদন জানাচ্ছি। মহামান্য প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি,
আপনারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল অভিভাবক। নিশ্চয়ই আপনারা অবগত আছেন যে, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ দুঃখজনকভাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে দেশে আগমন ও বহির্গমনের সময় প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিমানবন্দরে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে ৮ দফা দাবি। আমাদের ৮ দফা দাবি
১। যোগ্য ও সৎ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের অভিযোগ ও অনিয়ম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জনাব নওশাদ ও সরোয়ার আলম সাহেবদের মতো সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। ২। দ্রুত তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা বিমানবন্দরে কর্মরত যেকোনো শ্রমিক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩। জরিমানার ব্যবস্থা অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তির ওপর উপযুক্ত জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৪। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার ও যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের সীমার মধ্যে জামিনযোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করতে হবে। ৫। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ
অন্যায় হয়রানি, নির্যাতন বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে কোনো যাত্রী বা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬। অবৈধ কার্যক্রম ও অবৈধ মালামালের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা কোনো যাত্রী অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে অথবা অবৈধ মালামাল বহন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত, বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে নিরপরাধ যাত্রী যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।৭। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং স্বয়ংক্রিয় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হবে। ৮। অনলাইনভিত্তিক তদন্ত ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন অভিযোগ ও তদন্ত ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ, তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের স্লোগান
আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, আমরাই বাংলাদেশ—বাংলাদেশই আমরা। আমাদের অধিকার, আমাদের দাবি—মানতে হবে।অতএব, মহোদয়বৃন্দের নিকট আমাদের বিনীত আবেদন—বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি ও যাত্রীভোগান্তি দূর করে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আমরা বিশ্বাস করি, যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে দূর হবে। আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের দাবি ও আবেদন জানাচ্ছি। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদের পক্ষে মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক সভাপতি মোঃ সেলিম রানা প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।









