লক্ষ্মীপুর

রায়পুরবাসী ভুলবে না ইউএনও মেহেদী হাসান কাউসারকে।

একরাম হোসেনঃ
সরকারি চাকরির নিয়মে বদলি স্বাভাবিক। দায়িত্বের প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে যেতে হয়। তবে কিছু কর্মকর্তা কর্মস্থল ছাড়ার পরও মানুষের মনে থেকে যান তাঁদের কাজ, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার কারণে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউসার তেমনই একজন কর্মকর্তা।

রায়পুরে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের ঘটনাগুলোতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যক্ষ করেছি। বিশেষ করে রাতের বিভিন্ন অভিযান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁকে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে দেখা যায়নি। গভীর রাতেও প্রয়োজন হলে মাঠে ছুটে গেছেন। বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াকেও দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হতে দেননি।

রায়পুরের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রেও তাঁর সরেজমিন তৎপরতা ছিল উল্লেখ করার মতো। মহিলা কলেজ রোডের উন্নয়নকাজ তিনি শুধু দাপ্তরিক নথিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; নিয়মিত মাঠে গিয়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজের মান, বাস্তব অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিজের মতো করে দেখেছেন। উন্নয়নকাজের প্রতি তাঁর এমন নজরদারি দায়িত্বের প্রতি আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

তাঁর কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি ছিল সততা ও দায়িত্বশীলতা। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজন হলে সরেজমিনে গেছেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।

আমি নিজে তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুর সাক্ষী। তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে হয়, মেহেদী হাসান কাউসার শুধু একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি; তিনি মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের একটি দৃষ্টান্তও রেখে গেছেন।

আজ ৫ অক্টোবর। রায়পুরের দায়িত্ব শেষ করে তিনি যখন বিদায়ের পথে, তখন বদলি শুধু একজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয় নয়—এটি তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানুষ এবং তাঁর কর্মকাণ্ড কাছ থেকে দেখা মানুষের জন্যও এক ধরনের আবেগের মুহূর্ত।

একজন কর্মকর্তার মূল্যায়ন কেবল তাঁর পদবি দিয়ে হয় না; বরং তিনি দায়িত্ব পালনকালে মানুষের জন্য কী করেছেন, প্রশাসনকে কতটা সক্রিয় রেখেছেন এবং তাঁর কাজ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছে—সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর প্রকৃত পরিচয়।

মেহেদী হাসান কাউসার, আপনি রায়পুর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন—কিন্তু রায়পুরবাসী আপনাকে সহজে ভুলবে না। রাতের অভিযানে আপনার ছুটে চলা, বৃষ্টিতে ভিজেও দায়িত্ব পালন করা এবং মহিলা কলেজ রোডের উন্নয়নকাজসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের দৃশ্যগুলো আপনার কর্মকালকে স্মরণীয় করে রাখবে।

সরকারি দায়িত্বের কারণে কর্মস্থল বদলে যায়, মানুষও দূরে চলে যায়। কিন্তু সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে করা কাজ মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায় দীর্ঘদিন। রায়পুরে আপনার রেখে যাওয়া সেই কর্মের স্মৃতিই হয়তো আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন।

আপনার নতুন কর্মস্থলের পথচলা সফল ও সুন্দর হোক। মহান আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন এবং মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করার তৌফিক দান করুন।

রায়পুরবাসী আপনাকে মিস করবে। আপনার কর্ম, সততা ও দায়িত্বশীলতার স্মৃতি এই জনপদের মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button