ইসলামপুরে সার ব্যবসায়ী আতাউর হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২ জন।


রবিউল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের ইসলামপুরে বসতবাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান ওরফে আগাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার নিহতের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির (ফাঁসি) দাবিতে সড়ক নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
নিহত আতাউর রহমানের পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর সকালে ইসলামপুর পৌরসভার দক্ষিণ ভেঙ্গুড়া এলাকায় বসতবাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মো. সোজার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর শুরু করলে সার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান এতে বাধা ও প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা আতাউরের ওপর চড়াও হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা লোহার শাবল, হাতুড়ি, রড ও লাঠিসোঁটাসহ প্রাণঘাতী বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আতাউর রহমানকে বেধড়ক পেটায় এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হন। তাণ্ডব চালানোর সময় হামলাকারীরা বসতঘরের টিনের বেড়া, ইটের দেয়াল, টিউবওয়েল ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার নিহতের দাফন শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় আরিফুল ইসলাম আজিম, মোহাম্মদ বিপুল মিয়া, মোবারক হোসেন, নূর ইসলাম, আবুল কাসেম ও রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে দিনের আলোতে যেভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এজাহারভুক্ত আসামিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত এলাকাবাসী রাজপথ ছাড়বে না।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলার পর থেকেই বাদী ও নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিতে আসামিপক্ষের লোকজন নানাভাবে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় পরিবারটি এখন প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও কার্যকর সুরক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।










