

ডেক্স রিপোর্টঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৭ নং বামনী ইউনিয়ন যুবদলের আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় এ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম হুমায়ুন উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। রায়পুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন আরমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন রায়পুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেন সম্রাট। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড. এম. নাজমুল ইসলাম মিঠু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.বি.এম. জিলানী, রায়পুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম আলমাস, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছালেহ আহমেদ এবং লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মোহাম্মদ জাকির।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ ইব্রাহীম। এছাড়াও বক্তব্য দেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, রায়পুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভি.পি. নজরুল ইসলাম লিটন, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল এবং রায়পুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন। এ সময় ৭ নং বামনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন সুপার, সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম, ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কাজী মহসিন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কামাল ঢালীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও রায়পুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম শুভ চৌধুরী তারলার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রায়পুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান সুজন পাটওয়ারী। কর্মী সম্মেলনে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাবাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিষয়ে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রায়পুরের বামনী ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তা-ঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তরুণদের দক্ষতা ও কর্মমুখী উদ্যোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো স্থানীয় জনগণের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একটি এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব তখনই জনসম্পৃক্ত ও কার্যকর হয়ে ওঠে, যখন জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন, শান্তি, শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখা যায়। বামনী ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মী সম্মেলনে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মী সম্মেলন শেষ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে ৭ নং বামনী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নতুন উদ্যোগ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।










