

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে (ডিটেনশন সেন্টার) বন্দি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবনযাপন এবং দেশে ফেরার সময় চরম দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা একাধিক ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রগুলোতে বন্দিদের নূন্যতম মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে না। আটককেন্দ্রের ভয়াবহ চিত্র ভুক্তভোগী প্রবাসীদের ভাষ্যমতে, গ্রেফতারের সময় তারা যে পোশাক পরিহিত থাকেন, সেই পোশাকই তাদের শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। গ্রেফতারের পরপরই তাদের ব্যক্তিগত অনেক কিছুই কেড়ে নেওয়া হয় এবং সেসব পোশাক বা জিনিসপত্র আর ফেরত পাওয়া যায় না। মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর জেল খাটার পর যখন তারা দেশে ফেরার অনুমতি পান, তখন তাদের পরনের কাপড়টিই থাকে একমাত্র সম্বল। ফলে জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফেরার পথে অনেক প্রবাসীকে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও মানবেতর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনি উদ্বেগ মালয়েশিয়ার হিউম্যান রাইটস কমিশন (SUHAKAM) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন (জুলাই ২০২৬) অনুযায়ী, দেশটিতে অভিবাসন আটককেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত পুষ্টি এবং চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। শুধু ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অভিবাসন ডিটেনশন ডিপোগুলোতে ৪৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মানের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন। দেশটিতে বর্তমানে চলমান বড় আকারের অভিযান ও নতুন শরণার্থী নিবন্ধন প্রক্রিয়ার নামে প্রবাসীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীরা গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন এবং দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চিত আটকাবস্থায় থাকছেন।
প্রবাসীদের জন্য সতর্কতা বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোর। দেশটিতে কর্মরত বা গমনেচ্ছুক বাংলাদেশিদের প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের পরামর্শ:১. নথিপত্র যাচাই: নিজের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ও বৈধতা সব সময় হালনাগাদ রাখুন।২.সতর্কতা: যেকোনো ধরনের অবৈধ কাজ বা সন্দেহভাজন স্থান এড়িয়ে চলুন, কারণ বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।৩. নিরাপত্তা: কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ আইনি পরামর্শ নিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, মালয়েশিয়ায় বন্দি বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হোক এবং আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা হোক।










