

মোঃ একরাম হোসেনঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় শিরিন আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী সৌদি প্রবাসী ফেরত বশির আহম্মেদকে আটক করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজসংলগ্ন মধুপুর এলাকার একটি বাসা থেকে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে রায়পুর থানা পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত শিরিন আক্তার চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব আলোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।তিনি সৌদি প্রবাসী ফেরত বশির আহম্মেদের স্ত্রী এবং এক কন্যাসন্তানের জননী। স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বশির আহম্মেদ রায়পুরের মধুপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল।বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি।স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন সকালে শিরিনকে ঘরের বাইরে না দেখে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর থেকে শিরিনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শিরিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।অন্যদিকে,পুলিশ হেফাজতে থাকা স্বামী বশির আহম্মেদ দাবি করেছেন, পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে অভিমান করে শিরিন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম ভূঁইয়া জানান, “ঘটনার পর নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিরিনের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।










