

মোঃ নুরনবী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সুধীসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানার দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সোমবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিউর রহমান, সাবেক সভাপতি জুলফিকার আলী শাহ, প্রবীণ সাংবাদিক এন এম নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক রাজিউর রহমান জেহাদ রাজু, বাংলানিউজ২৪ প্রতিনিধি রাসেল রানা মেহেদী এবং রূপালী বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইলিয়াস আলী হৃদয়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্বাধীন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু, প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী, সাংবাদিক হাসান আলী, জিয়াউর রহমান, আব্দুল মোমেনসহ আরও অনেকে।বক্তারা জানান, গত ১১ মে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ভানোর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানাকে মাদকসহ আটক করা হয়। পরদিন ১২ মে পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। এ সংক্রান্ত সংবাদ সময়ের কণ্ঠস্বর ও দৈনিক আজকের পত্রিকায় প্রকাশ করেন সাংবাদিক আল মামুন জীবন। পাশাপাশি তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও সংবাদটি শেয়ার করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে জামিনে মুক্ত হয়ে গত ১৯ মে দুপুরে জুয়েল রানা মোবাইল ফোনে সাংবাদিক আল মামুন জীবনকে হত্যার হুমকি দেন এবং তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।মানববন্ধনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, “একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ প্রশাসনও অভিযোগ পাওয়ার পর রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা এন এম নুরুল ইসলাম প্রশাসনের প্রতি ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। স্বাধীন সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ রায়হান দুলু বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। মাদক ব্যবসায়ীরা যদি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের হুমকি দিতে পারে এবং প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেফতার, সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।










