

ডেক্স রিপোর্টঃ
সব ধরনের চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক আলোচিত ও সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাতেই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলা চিকিৎসা ও নিরলস প্রচেষ্টার পরও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে, ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, আমাদের ভাই হাদি রওনা দিয়েছেন অনন্তের পথে। আবরার, আবু সাঈদদের মতো হাদি না থেকেও আরও বেশি করে থাকবেন বাংলাদেশের বুকে। ইউ ফেইলড টু কিল ওসমান হাদি!” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।এর আগে, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। গুলি তার মাথা ভেদ করে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কয়েকদিন ধরে তার চিকিৎসা চললেও শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদী রাজনীতির প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ এক যোদ্ধা। তার মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের নিভে যাওয়া নয়, বরং একটি সময়ের, একটি সাহসী কণ্ঠের অবসান। তবে তার আদর্শ, সংগ্রাম আর স্বপ্ন বেঁচে থাকবে সহযোদ্ধাদের মধ্যে, বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।










