ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর আলগী ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, বসতঘর ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও জুলুমের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মান্নান আখনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মৃত শাহাদাৎ হোসেন আখনের স্ত্রী মনিরা বেগম, তাঁর দুই ছেলে আব্দুল আহাদ নান্নু ও জাকির হোসেন ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল মান্নান আখন। ফলে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মৃত শাহাদাৎ হোসেন আখনের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম ও সন্তানদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শাহাদাৎ হোসেন আখনের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান আখন তাঁদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সা আত্মসাৎ, জমি দখল এবং বসতঘর ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। পাশাপাশি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য মনিরা বেগমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক আচরণ, অত্যাচার ও জুলুম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-বিচার ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের দাবি, তাতেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে তাঁরা নতুন করে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। থানায় মামলা, তবুও সমাধানের অপেক্ষায় পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলার নম্বর, দায়েরের তারিখ, সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করা হলে ঘটনার আইনগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁদের অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, অর্থ লেনদেন, বসতঘর ভাঙচুর এবং নির্যাতনের অভিযোগগুলো পৃথকভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার মান্নান আখনের।অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান আখনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী পরিবারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তাই কারও বক্তব্যকে এককভাবে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, জমির দলিল, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা জরুরি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি। ভুক্তভোগী পরিবার চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁরা যেন নিরাপদে বসবাস ও নিজেদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ধরনের পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের গুরুত্ব রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও আদালতের। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষিত রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জমির মালিকানা ও দখল-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।কারও সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল, ভাঙচুর, জবরদস্তি বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না; তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা আবশ্যক। ছোট লক্ষ্মীপুরের এই ঘটনায় অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই, প্রাসঙ্গিক জমির কাগজপত্র পরীক্ষা, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং থানায় দায়ের করা মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই তদন্ত নিশ্চিত করবে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হয় কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]