নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন মানবিক সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের সন্তান হলেও কর্মজীবন, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সিলেট ও চট্টগ্রাম—উভয় অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গণমাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মানবিক কর্মকাণ্ডে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ।সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, এতিম, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদানের লক্ষ্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণেও সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের অংশ হিসেবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ এবং বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনার উদ্যোগও রয়েছে সংগঠনটির। পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখা দেশ-বিদেশের গুণীজনদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। দুই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন।সিলেট ও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি এবং চট্টগ্রামকে ১২ আউলিয়ার পুণ্যভূমি ও বন্দরনগরী হিসেবে অভিহিত করা হয়। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও উভয় অঞ্চলের মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নানা দিক রয়েছে। এই দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়।সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য হলো সিলেট ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও একটি অভিন্ন মানবিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে দেশ ও প্রবাসের দানশীল ব্যক্তি, সমাজসেবক, বুদ্ধিজীবী এবং সচেতন মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা।মানবিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তাঁর উদ্যোগের মূল দর্শন হলো—অঞ্চল, পেশা কিংবা আর্থিক অবস্থানের পার্থক্য ভুলে মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করা। এ ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তি ও সমাজসেবীদের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রসারে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চায়। সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]