মোঃ নুরনবী (ঠাকুরগাঁও)জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক অসচ্ছল কৃষকের বর্গা নেওয়া ১৩২ শতক জমির আমন ধান আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় ফসল নষ্ট করার হুমকির পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. সাদেকুল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি বালিয়াডাঙ্গী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১নং পাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়া (রাধাপাড়া) গ্রামের মৃত পেমু মোহাম্মদের ছেলে মো. সাদেকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি একজন অসচ্ছল কৃষক এবং কৃষিকাজের ওপরই তার পরিবারের জীবিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
জানা গেছে, মো. মিজানুর রহমানের ভাই নওয়াবুর ও মিষ্টারের কাছ থেকে সাদেকুল ইসলাম ওই জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান আবাদ করেন। ধান যখন বেড়ে উঠছিল, তখনই জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি।
সাদেকুল ইসলামের অভিযোগ, মো. মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ধানের ফসল নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে সাদেকুলের বর্গা নেওয়া জমিতে প্রবেশ করে ১৩২ শতক জমির আমন ধানক্ষেতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেন। এতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদেকুল আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ও স্থানীয় সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. মিজানুর রহমান (৪৫), মো. সাহেদ আলী (৫৫), মো. রুবেল হোসেন (১৯) ও মো. সাকিব হোসেন (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই দক্ষিণ পাড়িয়া (রাধাপাড়া) এলাকার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, জমির মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিজানুর রহমানের ভাই নওয়াবুর ও মিষ্টার বলেন, সাদেকুল একজন গরিব ও অসচ্ছল কৃষক। তিনি বর্গা নিয়ে ওই জমিতে ধান আবাদ করেছেন। তার ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
তবে প্রধান অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি ও ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি এবং ধান নষ্ট করার ঘটনার সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। তাকে ফাঁসানোর জন্যই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা জমিগুলো ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার ১নং পাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়া মৌজায় অবস্থিত। এজাহারে বিভিন্ন দাগে মোট ১৩২ শতক জমির আমন ধানের ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, লিখিত এজাহার পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]