বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ডিজেল ১৩৫, পেট্রোল ১৬০, অকটেন ১৬৫ ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা। দেশে আবারও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেই ভোক্তাদের আগের তুলনায় লিটারপ্রতি অতিরিক্ত ২০ টাকা গুনতে হবে।
এক নজরে নতুন দাম। জ্বালানি আগের দাম নতুন দাম বেড়েছে।
ডিজেল ১১৫ টাকা ১৩৫ টাকা ২০ টাকা
কেরোসিন ১৩৫ টাকা ১৫৫ টাকা ২০ টাকা
পেট্রোল ১৪০ টাকা ১৬০ টাকা ২০ টাকা
অকটেন ১৪৫ টাকা ১৬৫ টাকা ২০ টাকা
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সরকার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও অকটেন ১৪৫ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। সেই দামেই মাসের শুরু থেকে বিক্রি চলছিল। কেন বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের চাপ বেড়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী শুধু ডিজেলেই বিপিসির লিটারপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছিল বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দামের ব্যবধান কমানো এবং পাচারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দাম বাড়ায় প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ও নিত্যপণ্যে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাত, কৃষি, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল গণপরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক, নৌযান, সেচব্যবস্থা ও বিভিন্ন উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষক, পরিবহনকারী ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকার দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাজারে তুলনামূলকভাবে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। নতুন মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে আমদানি ব্যয় ও দেশীয় বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কিছুটা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয়ের মুখোমুখি।একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়—দুই দিক থেকেই সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনের যাতায়াত থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের ব্যবহার থাকায় এর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষি সেচ ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।একইভাবে পণ্যবাহী যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাড়লে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের নীতি। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়। এ ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে—ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার।জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—পরিবহন ভাড়া, নিত্যপণ্যের বাজার ও অন্যান্য সেবার মূল্য যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]