বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুর সরকারি কলেজের হারানো গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ ও মডেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. মোজাহারুল হক। অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপালপুর সরকারি কলেজে নিজ কার্যালয়ে গোপালপুর প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. মোজাহারুল হক। তিনি বলেন, একটি সময় গোপালপুর সরকারি কলেজ ছিল এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। আশপাশের তিন-চারটি উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়াশোনা করে পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সেই গৌরবময় ঐতিহ্য ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. মোজাহারুল হকের জন্ম গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের পিচুরিয়া গ্রামে।নিজের এলাকার এই গোপালপুর সরকারি কলেজ থেকেই তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।২২তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।গত ১৩ আগস্ট নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোপালপুর সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কলেজের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কলেজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিকবার মতবিনিময় করেছেন। এসব আলোচনায় কলেজের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।মতবিনিময়কালে অধ্যক্ষ বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি কলেজের মূল শক্তি হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদানে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গোপালপুর সরকারি কলেজকে আবারও তার পুরোনো অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।কলেজের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, সৃজনশীল কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ ছাড়া ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত ও ইভটিজিংমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অধ্যক্ষ ড. মো. মোজাহারুল হক বলেন, একটি কলেজের সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত অর্থে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষাও দিতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই গোপালপুর সরকারি কলেজে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, কলেজের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে শুধু অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, স্থানীয় সুধীজন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। অধ্যক্ষ বলেন, “এই কলেজ শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি গোপালপুরের মানুষেরও প্রতিষ্ঠান।” তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোপালপুর সরকারি কলেজের সুনাম, ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দায়িত্বশীলতা, নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা, আন্তরিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গোপালপুর সরকারি কলেজকে আবারও এ অঞ্চলের একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে। নিজের অভিজ্ঞতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে কলেজের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. মোজাহারুল হক।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে গোপালপুর সরকারি কলেজ আবারও তার পুরোনো গৌরব ফিরে পাবে এবং আগামী দিনে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]