নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁদপুর শহরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অসঙ্গতি পাওয়ায় দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এক্স-রে রুমের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি পাওয়ায় অপর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্ক করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর শহরের স্টেডিয়াম রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পি দত্তের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত থেকে অভিযানে সহযোগিতা করেন। অভিযানকালে স্টেডিয়াম রোডে অবস্থিত নাভানা প্রাইভেট হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়।সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকা, ডিপ্লোমা নার্সের অনুপস্থিতি, অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি পাওয়ার কথা জানানো হয়। এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় ল্যাব ওয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকা এবং নথিপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এদিকে একই এলাকার ডেল্টা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনকালে এক্স-রে রুমের ব্যবস্থাপনায় কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল হাসান ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার মান বজায় রাখা, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসাসেবা পান—সে লক্ষ্যেই এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে রোগী বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র, নিরাপদ অপারেশন থিয়েটার, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চিকিৎসা-নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের বিষয় নয়; এটি রোগীর জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, চিকিৎসক ও নার্সের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই করতে পারেন না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা ও সরকারি তদারকি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি তাকে নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার বিষয়টিও সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক তদারকি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও সংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। কেবল জরিমানার ভয়ে নয়, মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবার প্রতিটি পর্যায়ে বিদ্যমান আইন, বিধি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসা বা ডায়াগনস্টিক সেবা নেওয়ার আগে সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরিচয় ও যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় সেবা-সুবিধা সম্পর্কে যাচাই করে নেওয়া উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম বা রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা যেতে পারে। চাঁদপুরে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, আইনানুগ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয় সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]