নিজস্ব সংবাদদাতা:
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিবদের টার্গেট করে কথিত সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ‘দৈনিক ঊষার বাণী’ পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি মো. শুকুর আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগের কথা জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র নিয়ে কিছু ব্যক্তি নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের নামে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দাপ্তরিক কার্যক্রমে সামান্য অসঙ্গতি বা ত্রুটি খুঁজে সেটিকে অতিরঞ্জিত করে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।এরপর বিষয়টি সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় অভিযোগের সত্যতা যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার আগেই সংবাদ প্রকাশের চাপ সৃষ্টি করা হয়।এতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। তবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা পেশাগত দায়িত্ব। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের দাপ্তরিক কাজের মধ্যে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।একজন ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ যদি কোনো ভুল করে থাকেন, সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইউপি সচিবদের মধ্যে ক্ষোভ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা প্রতিদিন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সেবা, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দাবি, কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। তারা আরও বলেন, সত্যিকার সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেন এবং প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেন। কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে এতে পুরো সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সচেতন মহলের উদ্বেগ সাভার-আশুলিয়ার স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিকতার নামে অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রমাণ ছাড়া তাকে দোষী সাব্যস্ত না করে যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। তাদের মতে, একদিকে যেমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা অনুসন্ধান ও প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব, অন্যদিকে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি বা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি অভিযোগকারীরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী সংবাদকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন তারা। এ বিষয়ে ‘দৈনিক ঊষার বাণী’র সাভার প্রতিনিধি মো. শুকুর আলীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। তাই বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]