একরাম হোসেন রায়পুরঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৭ পিস ইয়াবাসহ জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাইচা এলাকার আশাদ আলী বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার অজিউল্লাহর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তার কাছে ইয়াবা রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে মাদকদ্রব্যসহ তাকে রায়পুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশের কাছে সোপর্দের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে মাদকের বিস্তার ও এর সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, শুধু একজনকে আটক করেই যেন তদন্তের পরিধি সীমাবদ্ধ না থাকে। ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখতে কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একজন আটক, নেপথ্যে কারা? স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব নাম বা অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, একজনের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে মাদকের উৎস কোথায়, কে বা কারা তা সরবরাহ করছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ মাদক শুধু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়; এর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়লে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের দাবি রায়পুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার যুবসমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক, প্রচার-প্রচারণা এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে দেখার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করাও মানবিক ও কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পরিবারকেও আরও সচেতন হতে হবে। সন্তানদের আচরণ, চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে মাদকের প্রতি তাদের ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রশাসনের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান।মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক রাখার বা বিক্রির অভিযোগ উঠলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশের কাছে সোপর্দের পর রায়পুর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তে যদি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মাদকমুক্ত রায়পুর গড়তে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকবিরোধী লড়াই কেবল অভিযান বা গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন। মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি এর চাহিদা কমানো, তরুণদের সচেতন করা এবং মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য রায়পুরে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক বিক্রির সম্ভাব্য স্পটগুলো চিহ্নিত করা, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তাকে দোষী বলা যাবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]