মোঃ সোহেল নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পেশিশক্তি, অন্যায় কিংবা সাময়িক ভীতি প্রদর্শনে সমাজ যখন স্তব্ধ হতে চায়, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—এই সমাজ ও রাষ্ট্র তবে কার? কিন্তু একটু গভীরে তাকালে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, যারা আজ অন্যায় ও মাস্তানির ভয় দেখিয়ে মানুষকে দাবিয়ে রাখতে চায়, তারা মূলত মানুষের অস্তিত্বের সেই আদিমতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়ের ইতিহাসটি ভুলেই গেছে। সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মোঃ সোহেল রাষ্ট্র, সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং মানহানির মতো আইনি জটিলতা বা ঝুঁকিগুলো সম্পূর্ণ সচেতনভাবে এড়িয়ে যখন কলম ধরেন, তখন সেই লেখা কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি থাকে না; তা হয়ে ওঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় দীপ্ত অগ্নিশিখা। আইনের পূর্ণ সীমানায় থেকে, রাষ্ট্রের নিয়মের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধা রেখে এবং সমাজের সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও বুদ্ধিজীবী মহলকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেই সাহসী ও সুশৃঙ্খল ভাবনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
"বিজ্ঞান বলে, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের একটিমাত্র প্রজনন চক্রে প্রায় চল্লিশ কোটি শুক্রাণু নিঃসরিত হয়। যুক্তির মানদণ্ডে যদি বিচার করা যায়, তবে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে যদি অনুকূল পরিবেশ থাকত, তবে সেই উৎস থেকে চল্লিশ কোটি সম্ভাবনাময় প্রাণের উন্মেষ ঘটতে পারত। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম ও নিখুঁত ছাঁকনিতে জীবন কখনোই এত সহজ নয়। সেই চল্লিশ কোটি শুক্রাণুর স্রোত জরায়ুর অন্তহীন পথে এক উন্মত্ত ও পাগলাটে দৌড় শুরু করে, যেখানে টিকে থাকে মাত্র তিনশ থেকে পাঁচশটি প্রাণকণা। বাকিরা এই মহাযুদ্ধের পথে ক্লান্তি, প্রতিকূলতা কিংবা অন্ধকারের গ্রাসে হারিয়ে যায়। এরপর কেবল সেই একটিমাত্র মহাবলী ও বিজয়ী শুক্রাণু ডিম্বাণুতে আসন গ্রহণ করার গৌরব অর্জন করে। আর সেই বিজয়ী সত্তাটি আর কেউ নন—সেটি আপনি, আমি, কিংবা আমাদের এই মানবজাতি। এই যে জন্মলগ্ন থেকেই একটি মরণপণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে আমাদের এই পৃথিবীতে আগমন, সেই আমরা কীভাবে কুচক্রী মহলের অন্যায় বা ভীতি প্রদর্শনে ভয় পাবো? কখনো কি নিভৃতে ভেবে দেখেছেন সেই অদেখা মহাযুদ্ধের কথা? প্রথম ধাপ: আপনি যখন সেই আদিম দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন, তখন আপনার কোনো চোখ ছিল না, হাত-পা ছিল না, মাথা বা নির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না—তবুও আপনি জিতেছিলেন। দ্বিতীয় ধাপ: আপনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট ছিল না, সচল কোনো মস্তিষ্ক ছিল না—তবুও আপনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তৃতীয় ধাপ: কোনো পূর্বশিক্ষা ছিল না, কেউ পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেনি, তবু একাকী সেই প্রতিযোগিতায় আপনিই প্রথম হয়েছিলেন।
চতুর্থ ধাপ: আপনার একটিমাত্র নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল, আর সেই লক্ষ্যের দিকে শত বাধা পেরিয়ে একাগ্র চিত্তে ছুটে গিয়ে আপনি ইতিহাস গড়েছিলেন। জীবনের যাত্রাপথ কখনই কুসুমাস্তীর্ণ নয়। অন্যায় বা ভীতি প্রদর্শনের থাবা যতই দীর্ঘ হোক না কেন, আইনের সীমানার মধ্যে থেকে এই দীর্ঘ পথে বহু ভ্রূণ মায়ের পেটেই ঝরে যায়, কিন্তু আপনি হার মানেননি; পূর্ণ দশটি মাস জঠরের অন্ধকার পেরিয়ে আলোয় এসেছিলেন। বহু শিশু জন্মমুহূর্তের লড়াইয়ে হেরে যায়, অথচ আপনি টিকেছিলেন। বহু শিশু জন্মের প্রথম পাঁচ বছরে পা রাখার আগেই হারিয়ে যায়, অথচ আপনি আজও সজীব। অপুষ্টি, যুদ্ধ, মহামারী আর জীবনের হাজারো অসংগতি ও অপরাধের জগত পেরিয়ে আপনি আজও বেঁচে আছেন। বড় হওয়ার এই বন্ধুর পথে কত মুখ নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়ে হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে, কিন্তু আপনি আজও দ্রোহ ও চেতনার আলোয় বর্তমান। প্রতিকূলতার দাপট ও আত্মবিশ্বাসের অদম্য শক্তি আজ আপনার সবকিছু আছে—বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন, সার্টিফিকেট, হাত-পা, চোখ, সচল মস্তিষ্ক এবং পরিকল্পনা করার মতো বুদ্ধি। সহায়তার জন্য আপনজন রয়েছে। অথচ কিছু লুটেরা বা মাস্তান প্রকৃতির মানুষের অন্যায় বা ভীতি প্রদর্শনে কেন আপনি এত সহজে থমকে দাঁড়ান? কেন আত্মবিশ্বাসের চাদর খসে পড়ে আপনার কাঁধ থেকে? যিনি জীবনের সূচনালগ্নে চল্লিশ কোটি প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে এক মরণপণ লড়াইয়ে কাউকে পাশে না পেয়েও বিজয়ী হতে পেরেছেন, তিনি কি না আজ এই সাময়িক প্রতিবন্ধকতা দেখে বলবেন—আমি হেরে গিয়েছি"? এটি কখনোই হতে পারে না। বুদ্ধিজীবী ও কলমযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ বার্তা
হে বুদ্ধিজীবী ও কলমযোদ্ধা সমাজ, আপনাদের লেখালেখি ও চিন্তন কেবল শব্দের কারুকার্য নয়; এটি অন্যায় ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য আইনের কাঠামোর ভেতর থেকে প্রতিহত করার এক মোক্ষম হাতিয়ার। রাষ্ট্র, সংবিধান ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে আপনাদের কলম হোক অপরাধ ও ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে এক অব্যর্থ মননশীল অস্ত্র। আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখে, মানহানি বা আইনি ঝুঁকির সমস্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে হাঁপিয়ে ওঠা এই মনকে একটু সময় দিন। তাকে স্মরণ করিয়ে দিন তার ভেতরে সুপ্ত থাকা সেই অবিনাশী প্রতিভাকে। মনের গভীরের চাওয়াসমূহকে মূল্য দিন এবং পরম করুণাময়ের স্মরণে নিজেকে সঁপে দিন। জীবন কেবল নিছক বেঁচে থাকা নয়, জীবন হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার এক অবিরাম উৎসব। শুরুতে যিনি বিজয়ী, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সক্ষমতাও কেবল তারই থাকে। আইন ও সংবিধানের পবিত্র সীমানায় থেকে আপনাদের অকুতোভয় কলম চলুক সমাজের শেকড় থেকে সমস্ত অন্যায় ও দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]