রিপোর্টার: একরাম হোসেনঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯ নম্বর চর আবাবিল ইউনিয়নের দক্ষিণ চর আবাবিল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আছলাম বেপারী বাড়িতে এক প্রবাসীর তালাবদ্ধ বসতঘরে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, পোশাক-পরিচ্ছদ ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ঘটনাস্থলে পেট্রোলের তীব্র গন্ধ, জানালার কাঁচ ভাঙা এবং বাইরে স্প্রে-সংযুক্ত কয়েকটি খালি বোতল পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে পরিকল্পিত নাশকতার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আকবর আলী বেপারীর ছেলে সৌদি প্রবাসী মোঃ রজ্জব আলী বেপারীর বসতবাড়িটি ঘটনার সময় তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির মালিক বিদেশে অবস্থান করায় এবং তার স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় থাকায় ঘরে কেউ ছিলেন না। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা ভবনের একটি জানালার থাইগ্লাস ভেঙে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া (৫৫) জানান, ফজরের আজান ও নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ভবনের ভেতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি চিৎকার দিয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে খবর দেন এবং দরজা খুলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে রায়পুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়। স্থানীয় যুবক রনিফ (১৯) বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায় একটি জানালার কাঁচ ভাঙা, জানালার বাইরে স্প্রে-সংযুক্ত কয়েকটি খালি বোতল পড়ে রয়েছে এবং পুরো ঘরে তীব্র পেট্রোলের গন্ধ ছড়িয়ে আছে। এসব আলামত দেখে তাদের দৃঢ় সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন লাগানো হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য হুমায়ুন কবির (৪১) ও কহিনুর বেগম (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মোছা. রুমা আক্তার বলেন, আমাদের ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বহু বছরের কষ্টার্জিত জিনিসপত্র মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। যারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাই এ ধরনের রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি। এতে অগ্নিকাণ্ডটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা—সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হবে। এ বিষয়ে হায়দরগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. বেলেয়েত হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে তাদের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। এদিকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]