নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকি এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সমন্বিত অভিযানে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে মাত্র ৩০ দিনে মোট ৪,৮৯৮ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক বহিষ্কারের ঘটনাটি দেশটিতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন।অভিযানের নেপথ্যে
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মামামোলোকো কুবাই (Mmamoloko Kubayi) জানিয়েছেন, দেশটির কর্মসংস্থান ও শ্রম বিভাগ, স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং পুলিশি বিশেষ ইউনিট ‘অপারেশন শানেলা’ (Operation Shanela) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।স্থানীয় শ্রম আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।কাদের সংখ্যা বেশি?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসে যে ৪,৮৯৮ জনকে নির্বাসিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মূলত নাইজেরিয়া, ঘানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক এবং লেসোথোর নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্রম বাজারে অবৈধভাবে কর্মসংস্থান ও বসবাসের বৈধ নথিপত্র না থাকার দায়েই তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাগরিক সচেতনতার বার্তা এই ঘটনাটি প্রবাসে কর্মরত বা পাড়ি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশের মাটিতে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের উচিত—বৈধ নথিপত্র: কাজের অনুমতি (Work Permit) এবং বসবাসের বৈধ ভিসা সবসময় হালনাগাদ রাখা। শ্রম আইন অনুসরণ: যে দেশে কাজ করছেন, সেই দেশের শ্রম আইন ও নিয়মাবলী সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা।আইনি পরামর্শ: কোনো ধরনের আইনি জটিলতা দেখা দিলে দালালের প্ররোচনায় না পড়ে স্বীকৃত আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি এবং স্ব স্ব দেশের আইন মেনে চলা কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল রাখে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কঠোর অবস্থান বিশ্বব্যাপী অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিল। পরবর্তী যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের দ্রুত বৈধতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে প্রশাসন।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]