কলামিস্ট: মোঃ সোহেলঃ
বর্তমান সময়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা আমাদের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের হৃদয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো সেই মেরুদণ্ড গড়ার সূতিকাগার। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় মনে হচ্ছে, কোনো একটি মহল শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত। পদত্যাগ বা অপসারণ—এই শব্দগুলো যেন আন্দোলনের একমাত্র গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, মন্ত্রীর পদত্যাগেই কি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্য? শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, একটি দাবি উত্থাপন ও তা নিয়ে যৌক্তিক আলোচনার সুযোগ সর্বদা উন্মুক্ত। কিন্তু সামান্য ভুলকে কেন্দ্র করে যখন রাজপথ অচল করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরি করা হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরাই হয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি সেমিস্টার অমূল্য। একটি সেমিস্টার লস মানে জীবন থেকে ছয়টি মাস চিরতরে হারিয়ে যাওয়া, যা সেশনজটের মরণফাঁদে শিক্ষার্থীদের আটকে ফেলে ফেসবুকের স্ট্যাটাসে উস্কানি দিয়ে যারা আড়ালে চলে যান, তারা তো আমাদের এই দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির দায়িত্ব নেবেন না। আমরা চাই সমাধান, উস্কানি নয়। আমরা চাই ক্লাসরুমের পরিবেশ, কোনো রাজনৈতিক বা তৃতীয় পক্ষের ঢাল হওয়া নয়। মন্ত্রীর যদি ভুল থাকে, তবে তা আলোচনার টেবিলে সংশোধন হতে পারে। কিন্তু রাস্তাঘাট বন্ধ করে, ক্লাস বর্জন করে নিজের পায়ে কুড়াল মারার কোনো মানে হয় না। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, আবেগ দিয়ে নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। আমরা কি চাই না আমাদের শিক্ষার আলো অব্যাহত থাকুক? অভিভাবকদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, আপনারা আপনাদের সন্তানদের এই সংকটময় মুহূর্তে সতর্ক রাখুন। মনে রাখবেন, মন্ত্রীর পদত্যাগ হলে হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন, কিন্তু আপনার সন্তানের যে শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে, তা আর কোনোভাবেই ফিরে পাওয়া যাবে না। সন্তানদের আবেগের সুযোগ নিয়ে যারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের চেনার সময় এসেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আমাদের শিক্ষার্থীদের এই আর্তনাদের ওপর নিবদ্ধ। তারা কখনোই চান না মেধাবী শিক্ষার্থীরা সেশনজটের অনিশ্চয়তায় পড়ুক। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য এবং আলোচনার মাধ্যমে দাবি উত্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরিশেষে বলি, শিক্ষা আমাদের অধিকার, এটি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে,আসুন আমরা শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরিয়ে আনি। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র গঠন বা পরিবর্তনের পথে শিক্ষাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। অস্থিরতা পরিহার করে চলুন আমরা ক্লাসে ফিরি, মেধার বিকাশ ঘটাই এবং দেশের উন্নয়নে নিবেদিত হই।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]