নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আব্দুল মমিন আনসারী, নির্বাহী সম্পাদক দেওয়ান আজাদ পারভেজ এবং মানবাধিকারকর্মী আব্দুল ওয়াহেদ আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)। সংগঠনটি এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি উদ্বেগজনক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে। জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার খাস নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম শফিক জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কারণে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে নওগাঁর মুখ্য আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৯ ধারায় একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আব্দুল মমিন আনসারী, নির্বাহী সম্পাদক দেওয়ান আজাদ পারভেজ এবং মানবাধিকারকর্মী আব্দুল ওয়াহেদ আজাদকে আসামি করা হয়েছে।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অনুসন্ধানী ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা তথ্য অনুসন্ধান ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইনানুগ ও ন্যায়সংগত উপায়ে প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি কিংবা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংগঠনের সভাপতি খান সেলিম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটি পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের দায়িত্ব। গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি বা চাপের মুখে ফেলা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াবে। তারা আরও বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ কখনো মামলা বা হয়রানির মাধ্যমে রুদ্ধ করা যায় না। বরং মুক্ত ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের অবাধ পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে। সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্বার্থে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কারণ সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে থাকা সাংবাদিকতার মূল শক্তি; আর সেই শক্তিকে মামলা-হয়রানি দিয়ে কখনোই দমিয়ে রাখা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]