একরাম হোসেনঃ
লক্ষ্মীপুরের উপজেলায় মাছঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সাজু মোল্লার মাছঘাট এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ, ইজারা ও আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন মাছঘাট এলাকায় অবস্থান নিলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের মধ্যে রাব্বি (২২), ফরহাদ (২৭), সুমন (৩০) ও দেলোয়ার (৩২)-এর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা শফি উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, একই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ফারুক সরদার, যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ (বলি) ও তারেক সরদারের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত লোক মাছঘাট দখলের উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়।তাদের হামলায় রাব্বি ও ফরহাদসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি ফারুক সরদার। তিনি বলেন, “প্রায় ১৭ বছর ধরে আমরা যৌথভাবে এই ঘাট পরিচালনা করে আসছি।আজকের ঘটনায় আমাদের লোকজনও আহত হয়েছে।তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]