মোঃ কামরুজ্জামান বাবু, পোরশা প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলার সীমান্তবর্তী নিতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অকাল বন্যা ও টানা পানিবন্দি অবস্থার কারণে চলতি মৌসুমের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা কষ্ট করে যে ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ধান এখন ক্ষেতেই নষ্ট হতে বসেছে। অনেক জায়গায় কাটা ধানের আঁটিতে গজিয়ে গেছে নতুন চারা, যা কৃষকের জন্য চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে পূর্ণভবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। নদীর অরক্ষিত অংশ দিয়ে পানি ঢুকে এক রাতের মধ্যেই তলিয়ে যায় হলদীর বিল, কুড়োল বিল, শুকনী বিল, পারঘাটি, নাংলা ও হাতিখোঁচা বিলসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে শত শত বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে চলে যায়। কৃষকরা জানান, ধান কাটার উপযুক্ত সময় হলেও হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই জমি থেকে ধান ঘরে তুলতে পারেননি। কেউ কেউ কেটে রাখা ধান মাঠেই রেখেছিলেন শুকানোর জন্য। কিন্তু বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে সেই ধানের আঁটিতেই গজিয়ে গেছে চারা। এতে ধানের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাজারমূল্যও কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এলাকার অধিকাংশ কৃষক এনজিও ও বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে আবাদ করেছিলেন। ফসল বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের আশা থাকলেও এখন ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। অনেক কৃষক শ্রমিকের মজুরিও এখনো পরিশোধ করতে পারেননি।স্থানীয় কৃষকরা বলেন, সারা বছর কষ্ট করে চাষাবাদ করেছি। শেষ সময়ে এসে পানিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসই হচ্ছে ধান চাষ। তাই এমন ক্ষতিতে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হোক। পাশাপাশি নদীর অরক্ষিত স্থানগুলোতে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের কৃষকদের এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]