হাসিনুজ্জামান মিন্টু রানীশংকৈল প্রতিনিধিঃ
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্যাতিত সাহসী নারী ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনা শ্রী টেপরী রানী আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধুর ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষীকে হারিয়ে শোকাহত স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষ।বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামে তাঁর নিজ বাসভবনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে পারিবারিক শ্মশানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাতিজা বেগম, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, শ্রী টেপরী রানী ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কখনও ভেঙে পড়েননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ বুকে ধারণ করে গেছেন। বক্তারা আরও বলেন, বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের ত্যাগের বিনিময়েই এ দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে বীরাঙ্গনাদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও মূল্যায়ন করা জরুরি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার নারীদের “বীরাঙ্গনা” উপাধিতে ভূষিত করেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হয়। শ্রী টেপরী রানীও সেই সাহসী নারীদের একজন, যিনি নির্যাতনের নির্মম স্মৃতি বয়ে নিয়েও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রী টেপরী রানী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রী টেপরী রানীর জীবনসংগ্রাম, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের সময় গ্রামবাসীর আবেগঘন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই চোখের জলে বিদায় জানান স্বাধীনতার এই সাহসী সন্তানকে। স্থানীয়দের মতে, শ্রী টেপরী রানীর মৃত্যুতে দেশ হারালো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]