সালমা আক্তার, কুমিল্লা প্রতিনিধিঝ
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংবাদিকদের বিশাল সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি।বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত শত শত সাংবাদিক অংশ নেন।জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ (১-৭ মে) উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের কণ্ঠে উঠে আসে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও পেশাগত বৈষম্যের চিত্র। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা এদিন পরিণত হয় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের এক প্রতিবাদী মঞ্চে। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজ গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেও বাস্তবতায় সাংবাদিকরা আজ সবচেয়ে অবহেলিত। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি, হামলা-মামলা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা।বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছর পার হলেও সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বরং বিভিন্ন সময় সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। তারা বলেন, “জাতির বিবেক হিসেবে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করলেও তাদের ন্যায্য সম্মান, নিরাপত্তা ও জীবনমান নিশ্চিত করা হয়নি। সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের জন্য পৃথক “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ এবং মফস্বল সাংবাদিকদের সরকারি ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার। তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, শুধু মুষ্টিমেয় কিছু অভিজাত সাংবাদিকের মতামত নয়, তৃণমূলের সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যাও সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। সমাবেশে উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে ছিল— জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন ও পরিচয়পত্র প্রদান, নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়ন, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে বিশেষ আইন প্রণয়ন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন, প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা এবং জেলা-উপজেলার সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা।এ সময় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য সচিব ওমর ফারুক জালাল, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধরসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোঃ আবুল হোসেনসহ সারাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে ঘোষণা দেন—পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে, যতদিন না সাংবাদিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]