নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের রাজপাট দক্ষিণ পাড়া, বরইহাট গ্রামে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। অভিযোগ আছে, ওই গ্রামের অসিম, সাহিনুর, কালাম ও নাসির জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে সেগুলো ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে পড়েছে আশেপাশের আরও ফসলি জমি ও বসত বাড়ি। স্থানীয়রা জানায়, সিঙ্গা, রাজপাট ও পুইশুর ইউনিয়নে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও আবার রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন অব্যাহত আছে। বালুদস্যুা প্রথমে মাঠের মাঝখানে কম দামে জমি কেনে। এরপর সেই ফসলি জমি থেকে শুরু করে বালু বিক্রি। দিনে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারনে রাতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে তোলা হয় বালু। তৈরি হয় বিশাল আকাড়ে গর্ত। পরে আশপাশের জমি ভাঙতে শুরু করে। এর পর ভয় দেখিয়ে ওইসব ফসলি জমি কিনে শুরু করা হয় মাটি-বালু উত্তোলন।সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, রাজপাট ইউনিয়নের অসিম, কালাম ও সাহানুর বরইহাট সিদ্দিকীয়া সিনিয়র(আলিম) মাদ্রাসা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কাজে বালু দেয়ার নাম করে রাতের আঁধারে( ভ্রাম্যমাণ আদাল পরিচালনার পর) ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে ইউনিয়নের ধোপাপাড়া গ্রামে রাজপাট কলেজের প্রফেসর মতিয়ার রহমান মতিন ও ইয়াসিন দিন-রাত এক করে বালু উত্তোলন করে নতুন নির্মাণাধীন রাস্তার বেড, বসতি ভিটা ও রাস্তার পাশের যায়গা ভরাট করছেন। রাজপাট দক্ষিণ পাড়া রজব আলির পুকুর থেকে স্কুলে বালু দেয়ার নাম করে ভূমিদস্যু অসিম বালু উত্তোলন করছেন। কয়েকজন সংবাদকর্মীকে দেখে তারা ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দেন। তাদের প্রশ্ন করলে উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচারণও করেন। অসিম ও তারা বলেন, এখন দিনে নয়, রাতে বালু তুলি, প্রশাসন আমাদের কিছুই করতে পারবেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানায়, অসিম,সাহিনুর, কালাম, প্রফেসর মতিউর রহমান মতিন ও ইয়াসিন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত বলু উত্তোলন করে। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হচ্ছে। ওই ভূমিদস্যুদের কাছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারাও ব্যর্থ। পরিবেশবিষয়ক আইন সংস্থা 'বেলা' একটি সূত্র জানায়, অবৈধ ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। বালু উত্তোলন করতে হলে সরকার স্বীকৃতি নির্ধারিত বালু মহল থেকে তা উত্তোলন করতে হয়। ফসলি জমি, পুকুর, ডোবা-নালা বা গ্রামের বৃদ্ধ খাল থেকে বালু উত্তোলনের সময় সেখানে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়,তার কারনে আশপাশের ভূমি বা ভূমিতে অবস্থিত বিভিন্ন স্থাপনা, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি ও গাছপালা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অথচ রাজপাট ইউনিয়নে মাদ্রাসা, আশ্রয়কেন্দ্রে, রাস্তার বেড ও স্কুল মাঠ ভরাট করতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য টিকাদারের কাছে স্বল্প খরচে বালু উত্তোলন করে তা তারা বিক্রি করেন। রাজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিল্টন মিঞা পটু বলেন, একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হয়েছে। তার পরেও বন্ধ হচ্ছেনা রাজপাট ইউনিয়নে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং আইনশৃংখলা মিটিংয়ে এ বিষয় নিয়ে আবারও আলোচন করা হবে। কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ জানান, বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে জেনেছি। ক'য়েক বার ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। রাতে বালু উত্তোলনের বিষয়টির সত্যতা পেলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]