মোঃ আরিফুর রহমান মামুন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় ভয়াবহ আকারে বিস্তার লাভ করেছে মাদক ব্যবসা। গাঁজা ও ইয়াবার সহজলভ্যতা উপজেলা ব্যাপী তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উপজেলার অন্তত শতাধিক স্থানে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা সরবরাহ। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে এলাকাবাসী।
দৈনন্দিন মাদকের আখড়াস্থল দুমকীর হলপট্টি(নতুন বাজার এলাকা),পবিপ্রবি গেইট, খামারবাড়ি, সরকারি জনতা কলেজ গেইট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন(হাসপাতাল সড়ক), গার্লস স্কুল, একে স্কুলের পেছনের রোড, আনন্দ বাজার, পাতাবুনিয়া বাজার, চরগরবদি ফেরিঘাট, পাগলা, মৌকরণ ব্রিজের ঢাল, হাজিরহাট, তেঁতুলবাড়িয়া খেয়াঘাট, মুরাদিয়ার ভক্ত বাড়ি শ্রী রামপুর খেয়াঘাট ও মহিলা মাদ্রাসা ব্রিজ,মজুমদার বাড়ি,বটতলা প্রতাপপুর খেয়াঘাট সহ বহু স্থানে মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের অবাধ বিচরন(কেনাবেচা)।এসব মাদকের নিরাপদ পাচার রুট ও অভিনব কৌশল সম্পর্কে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে- পটুয়াখালী থেকে শ্রীরামপুর ঠোডা ও জামলা হয়ে মহিলা মাদ্রাসা এছাড়াও বরিশাল হয়ে পায়রা সেতু ও চরগরবদি হয়ে নৌ ও সড়কপথে নিয়মিত মাদকের চালান প্রবেশ করছে দুমকীতে। ঢাকা, ফতুল্লা ও চাঁদপুর থেকে আসা চালানগুলো ভোররাতে চরগরবদি লঞ্চঘাটে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে বিভিন্ন ডিলারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার সর্বত্র মাদক সেবীদের হাতে। মাদক বিক্রিতে ব্যবহৃত হচ্ছে অভিনব কৌশল-হোম ডেলিভারি, মোবাইল ফোনে অর্ডার এবং হাতে হাতে’ লেনদেনের মাধ্যমে খুব সহজেই মাদক সেবীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এসব প্রাণঘাতী দ্রব্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র এ প্রতিবেদক'কে জানিয়েছেন, ২৫ গ্রাম গাঁজা ১ হাজার টাকা এবং প্রতি পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এদিকে,তরুণ সমাজ বিপন্ন ও অভিভাবকদের উদ্বেগ প্রকাশে জানা যায়-উঠতি বয়সি তরুণরাই মাদকের প্রধান ভোক্তা। শিক্ষাঙ্গন, খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে মুখ ফিরিয়ে এরা এখন ধীরে ধীরে মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বহু মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।তিনি আরও বলেন,-কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের যৌথ প্রয়াস ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি সচেতন নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান এবং পরিচয়(সোর্স) গোপন রাখার নিশ্চয়তা দেন। পটুয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হামিমুর রশীদ-এ প্রতিবেদক'কে বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্ম চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।"মাদক প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে সকলের।তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। সবাই একসাথে এগিয়ে এলেই সম্ভব হবে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়া।"
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]