নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফরিদপুরে এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আ.লীগ নেত্রীর মেয়ে, কমিটি নিয়ে ক্ষোভ ফরিদপুরে সদ্য ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমন্বয় কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘উল্টে যাচ্ছে গণেশ… সাপের ডিম সাপেই খাবে। ২৩ সদস্যের এই কমিটিতে ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা মুখোশধারীদের’ স্থান দেওয়ায় তিনি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনসিপি ছিল শহীদদের রক্ত ও বীরদের ত্যাগে নির্মিত। কিন্তু আজ সেই দলে জায়গা পাচ্ছে তারা, যারা সেই সময় বিরোধিতা করেছিল। ফরিদপুর জেলা শাখার ঘোষিত সমন্বয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফরিদপুরের ছাত্রজনতার বুকে গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি সৈয়দা নীলিমা দোলা। যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন এসএম জাহিদ, সাইফ হাসান খান, জিল্লুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসেন ও মো. কামাল হোসাইন। এছাড়া ১৭ জন সদস্য রয়েছেন যারা জেলার বিভিন্ন পেশা ও পটভূমি থেকে এসেছেন।গত ৫ জুন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে এ কমিটি ঘোষণা করেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত। এছাড়া গত ৩ জুন এনসিপির শ্রমিক উইংসের ৩৬ সদস্যের আরেকটি জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠিত হয়। যার প্রধান সমন্বয়কারী এসএম জুনায়েদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের সদস্যসচিব সোহেল রানা ফেসবুকে তার নিজস্ব আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্যে সোহেল রানা লেখেন,উল্টে যাচ্ছে গণেশ। জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। শদীদের রক্ত, হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বীরদের ত্যাগের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। দেখতে পাচ্ছি আমরা তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের সম্মানিত দালালরা, ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা দোসররা মুখ লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যায়গা নিচ্ছেন এই দলে। বাদ যাচ্ছে না সহযোগী সংগঠন গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনি আরও উল্লেখ করেন-এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার আগে কখনো খতিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন নাই, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা ছিল। কার অবস্থান কি ছিল! জুলাইয়ের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যাদের পদ/পদবি দিবেন, তারা কি চায়! মানুষের জন্য রাজনীতি নাকি, টেন্ডারবাজি, দখলদারী, করে নিজের পকেট ভারী। সময় ভালো চলছে.বসন্তের কোকিল আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে, সময় খারাপ হলে, এদের কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে? রীতিমতো অবাক করে দিচ্ছেন আমাদের! যেটার ফলাফল হবে- সাপের ডিম সাপেই খাবে! এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, রাজনীতিতে কিছু বিতর্ক থাকবেই। আমরা ছবির রাজনীতি করি না। কারও আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ছবি থাকলে সেটাই সব নয়। তবে কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতেও নানান মাইন্ডের অনেকে রয়েছে। তাই কারও পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পর্কের ভিত্তিতে না দেখে আমরা তার বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা দেখছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক এসএম পারভেজ
ফ: +8801716159137
Email: [email protected]